হযরত সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) এর মা বলেছিলেন যাও বেটা আমি তোমাকে,

আল্লাহর দ্বীনের জন্য (ওয়াক্বফ) করে দিলাম।

আজ যদি কোনো মা-বাবা শুনতে পায় তার ছেলে আমেরিকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে তাহলে সাথে সাথে তাকে পাঠিয়ে দিবে । অতি বৃদ্ধ মা-বাবাও বলবে না , না বাবা যেও না । বরং তাকে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য সকলেই ব্যতি ব্যস্ত হয়ে পড়বে

অথচ আমাদের পিছনে এমন একটা সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন মা তার আদরের দুলালকে আল্লাহর দীনের জন্য বিসর্জন দিতেন।

"মায়ের আদরের দুলাল সুফিয়ান সাওরী (রহঃ)

ঘর থেকে বের হলেন, আর এখন মুরুব্বীরা তো মাত্র এক চিল্লা বা চার মাসের কথা বলেন। হযরত সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) ঊনিশ

বছর পর ঘরে ফিরে এসেছিলেন, সেই মা ও কেমন ছিলেন! ঘরে ফিরেছেন রাতের বেলা। দরজায় কড়া নেড়েছেন।

মাকে আল্লাহ পাক হায়াত ও দিয়েছিলেন।

মা জীবিত ছিলেন, ভিতর থেকে বললেন কে ?

বললেন তোমার পুত্র সুফিয়ান, তাৎক্ষণিক মা বললেন বাবা কাউকে কোনো জিনিস উপহার দিয়ে তা ফিরত নেওয়া খুবই অপমানজনক। আমি তো তোমাকে আল্লাহ্‌র কাছে দিয়ে দিয়েছি। তোমাকে ফিরিয়ে নেওয়া বড়ই

অপমানের বিষয় মনে হচ্ছে। তোমার জন্য এই

দুনিয়াতে আমি দরজা খুলতে পারবোনা।

তুমি আল্লাহ্‌র রাস্তায় ফিরে যাও, কেয়ামতের দিন সাক্ষাৎ হবে। সেই দিনই সান্ত্বনা লাভ করবো ইনশাআল্লাহ। মা দরজা খোলেননি সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) ফিরে গেছেন ।

তারপর এই সুফিয়ান সাওরী কোথায় পৌছেছেন ? মা যত বড় তার সন্তান ততটাই বড় হবে।

 'বাদশাহ আবু জাফর, মনসুরের বিরুদ্ধে

খোলামেলা ফতোয়া দিয়েছেন।

মনসুর বলে পাঠিয়েছে আমি মক্কায় আসছি ।

আমি আসার আগেই শূলি প্রস্তুত করে রাখো । আমি এসেই সুফিয়ান সাওরী কে শূলিতে দেবো, সুফিয়ান সাওরী বিখ্যাত তাপস ফুযাইল ইবনে

আয়ায (রহঃ) এর কোলে মাথা রেখে বিশ্রাম করছেন স্থান ও পবিত্র হারাম শরীফ।

এমন সময়, বিখ্যাত মুহাদ্দিস সুফিয়ান ইবনে ওয়াইনা (রহঃ) ছুটে আসলেন। এসেই বলতে লাগলেন সুফিয়ান ! সর্বনাশ হয়েছে।

কি সর্বনাশ ? বাদশাহ মনসুর তোমাকে শূলির আদেশ দিয়েছেন।তোমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এখান থেকে সরে যাও। সুফিয়ান সাওরী বললেন আসলেই সে একথা বলেছে ? হাঁ বলেছে। আমি পালিয়ে যাব ?

এটা কোনো কথা হলো ? সেখান থেকে

সোজা চলে গেলেন বাইতুল্লাহর সামনে। মুলাতাযিম চেপে ধরে ফরিয়াদ করলেন হে আল্লাহ! তুমি যদি মনসুরকে মক্কায় ঢুকতে দাও তাহলে তোমার সাথে আমার কোনো বন্ধুত্ব নেই। হায়রে মক্কা কেন মনসুর তায়েফেও প্রবেশ করতে পারেনি । দুর্ভাগা তাহাকে তায়েফে প্রবেশ করার আগেই মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নিয়েছে॥ কেমন ঈমান ওয়ালা তাহারা ছিলেন।

-আল্লাহু-আকবার, আল্লাহু-আকবার

আল্লাহ'র সাথে আল্লাহ'র মহব্বতের বান্দাদের

সম্পর্ক এমনই হয়। এমন করেই আল্লাহ তাঁর মহব্বতের বান্দাকে গুরুত্ব দেন।সেই মহব্বতে রাজা-বাদশাহও ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

সংগৃহীত


★হযরত সাদ রা.এর মৃত্যুর পর সম্মান প্রদর্শন★

হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ রা.ইন্তেকাল করলেন।হযরত জিবরাইল আ.এসে নিবেদন করলেন, য়া রাসুলুল্লাহ, আজ আপনার সাহাবিদের মধ্যে কে ইন্তেকাল করেছে?রাসুল সা.বললেন কেন? কী হয়েছে? হযরত জিবরাইল আ.বললেন, যখন কোনো ইমানদার মারা যায় তখন তার রুহ সোজা আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে।জিবরাইল বলেন,আজ আল্লাহর আরশ আনন্দে দুলছে। কে আসছে?? 

সাত আসমানের ফেরেশতা আজ খুশিতে আত্মহারা।কে আসছে?রাসুল সা.বলেন, হায়,আমার সাদ তাহলে চলে গেলো।

হযরত সাদ রা.যুদ্ধে জখম ও রক্তাক্ত হয়েছিল। তাই রাসুল সা.বুঝতে পারলেন হযরত সাদ রা.ইনতেকাল করেছেন।রাসুল সা.দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে এলেন।তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে এত দ্রুত চলতে লাগলেন যে, সাহাবায়ে কেরাম তার পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছিলেন।তিনি হাঁটছিলেন।তাদের জুতার ফিতা ছিরে যাওয়ার মতো অবস্হা ।তারা নিবেদন করলেন, য়া রাসুলুল্লাহ ,একটু আস্তে চলুন। আমরা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। রাসুল সা.বললেন, তারাতারি চলো।আমার ভয় হচ্ছে আমরা পৌঁছার পূর্বে ফেরেস্তারা আবার সাদকে গোসল দিয়ে দেয় কিনা।তাহলে আমরা তাকে গোসল দেওয়া থেকে বঞ্চিত হবো।তাই জলদি চলো।দৌড়াতে দৌড়াতে পৌঁছে দেখলেন হযরত সাদ রা.এর মৃতদেহ ঘরে পড়ে আছে।ঘরে কেউ নেই।হযরত সাহাবায়ে কেরাম বাহিরে দাড়িয়ে রইলেন। রাসুল সা.ভিতরে গেলেন।ভিতরে কিভাবে গেলেন?যেমন খতিব সাহেব বয়ান করা অবস্হায় কেও যদি তার সামনে যেতে চাই তাহলে তাকে কখনো ডানদিক আবার কখনো বামদিক দিয়ে আসতে হবে সরাসরি আসতে পারবে না, কারন তার সামনের রাস্তা লোকে লোকারণ্য। ঠীক তেমনিভাবে সাহাবায়ে কেরাম বাহিরে থেকে দেখতে পেলেন, হুজুর সা. কখনো এ-দিক পা রাখছেন।কখনো ও-দিক পা ফেলছেন। কখনো পা পুরাটা মাটিতে রাখছেন। কখনো অর্ধেক পা।তারপর সাদ রা.এর মাথার কাছে গিয়ে সংকুচিত হয়ে বসলেন।সাহাবায়ে কেরাম নিবেদন করলেন,য়া রাসুলুল্লাহ, কেন আপনি অমন করলেন?আমরা তো ঘরে কাউকে দেখছি না।রাসুল সা.ইরশাদ করলেন,ঘরে ফেরেশতা এতো বেশি ছিলো যে,পা রাখার জায়গাটুকু পর্যন্ত ছিলো না।এইমাএ একজন ফেরেশতা তার ডানা সংকুচিত করে আমার বসার জায়গা বানিয়েছে।আমাদের মৃত্যু যেন এমন হয়।মরলে এভাবেই মরা উচিত আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুক।আমিন..........

এই হচ্ছে সফল জীবন

Comments

Popular posts from this blog