***হযরত ওয়াহশী ইবনে হারব (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহনের ঘটনা***
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হযরত হামযা (রাঃ)এর হত্যাকারী ওয়াহশী ইবনে হারব (রাঃ) এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়া পাঠাইলেন। তিনি বলিয়া পাঠাইলেন যে, হে মুহাম্মাদ, আপনি আমাকে কিরূপে দাওয়াত দিতেছেন? অথচ আপনি বলেন, যে ব্যক্তি হত্যা করে, শিরক করে অথবা জেনা করে, সে দোযখে যাইবে, কেয়ামতের দিন তাহার আজাব দ্বিগুণ করা হইবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকিবে। আর আমি ত এই সকল কর্ম করিয়াছি। আপনার নিকট আমার জন্য শাস্তি হইতে পরিত্রাণের কোন পথ কি আছে? আল্লাহ্ তাআলা তাহার এই প্রশ্নের উত্তরে নিম্নের আয়াত নাযিল করিলেন-
''কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করিয়াছে এবং ঈমান আনিয়াছে ও নেক আমল করিয়াছে। এই সকল লোকদের গুনাহগুলিকে আল্লাহ্ তাআলা নেকী দ্বারা পরিবর্তন করিয়া দিবেন। আর আল্লাহ্ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়াবান।''
অতঃপর ওয়াহশী (রাঃ) বলিলেন, হে মুহাম্মাদ, তওবা, ঈমান ও নেক আমলের এই শর্ত ত বড় কঠিন। হয়ত আমি উহা যথাযথ পালন করিতে সক্ষম হইব না। তাহার এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করিলেন--''আল্লাহ্ তাআলা শিরক গুনাহ মাফ করিবেন না, তবে শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ যাহাকে ইচ্ছা মাফ করিয়া দিবেন।''
ওয়াহশী (রাঃ) বলিলেন, হে মুহাম্মাদ, মাফ পাওয়া ত আল্লাহ্ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল হইল, তিনি আমাকে মাফ করিবেন কিনা? ইহা ব্যতীত আর কিছু আছে কি? সুতরাং আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করিলেন--''হে আমার বান্দাগণ, যাহারা নিজেদের উপর জুলুম করিয়াছে, তোমরা আমার রহমত হইতে নিরাশ হইও, নিশ্চয় আল্লাহ্ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। নিশ্চয় তিনি বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।''
এই শুনিয়া ওয়াহশী (রাঃ) বললেন, হা, এখন হইতে পারে। অতএব তিনি মুসলমান হইয়া গেলেন। লোকেরা বলিল, ইয়া রাসূলুল্লাহ ওয়াহশী যে গুনাহ করিয়াছে আমরাও ত তাহা করিয়াছি। তবে কি আমাদের জন্যও এইরূপ হইবে?
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলিলেন, ইহা সাধারণভাবে সকল মুসলমানের জন্য। (তাবরানী)
Comments
Post a Comment