* একবার কিছু লোক হযরত ঈসা (আঃ) এর কাছে
এক ধোপার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলঃ হযরত! এই
ধোপার স্বভাব অতি খারাপ। মানুষের
কাপড় বদলে ফেলে,ধোকা দেয়। আপনি তার জন্য
বদ দোয়া করে দিন যেন তার মৃত্যু হয় আর
আমরাও মুক্তি পাই।
হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহ তা'আলার দরবারে বদ
দোয়া
করলেনঃ 'হে আল্লাহ! তুমি তার থেকে তোমার দায়িত্ব
তুলে নাও।' অর্থাৎ তাকে তোমার রহমত ও
অভিভাবকত্ব থেকে আলাদা করে দাও!
এই দোয়া করার পর তিনি সকলকেই জানিয়ে দিলেন
এর বয়স শুধু আজকের দিন বাকি। লোকেরা দোয়ার
উপর আশ্বস্ত হল এবং ধরেই
নিয়েছে ধোপা এবার শেষ।
এদিকে দোপা তার দৈনন্দিন কর্মসূচী মুতাবিক
দিবসের খাবার তিনটি রুটি নিয়ে ঘাটের দিকে
যাচ্ছিল। পথে এক ভিক্ষুক এসে হাত পাতল। বললঃ
আমি খুবই ক্ষুধার্ত। আমাকে একটি রুটি দান
করুন। ধোপা একটি রুটি তাকে দান করল।
বিক্ষুক একটি রুটি হাতে পেয়ে দু'আ করলঃ
'আল্লাহ তা'আলা তোমার অতীত দিনের সকল পাপ
মাফ করে
দিন এবং তোমার অন্তরকে পবিত্র করে দিন।'
ধোপার কাছে বিক্ষুকের দু'আ খুবই ভাল লাগল।
সে দ্বিতীয় রুটিটিও তাকে দান করে দিল। এবার
ভিক্ষুক
এই বলে দু'আ করলঃ
'আল্লাহ তা'আলা তোমার পুর্বের-পরের সকল গোনাহ
মাফ
করে দিন।'
এ কথা শুনে ধোপা তাকে তৃতীয় রুটিটিও দান
করে দিল। তখন বিক্ষুক এই বলে দু'আ করলঃ
'আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সকল প্রকার
আসমানী বিপদ
থেকে রক্ষা করুন এবং তোমার জন্যে বেহেশতে
একটি মহল তৈরী করে দিন।'
এদিকে সকলেই অপেক্ষমান ধোপার অবস্থা
দেখার জন্য। বিকালে সবাই বিস্ময়ের সাথে
লক্ষ্য করল ধোপা তার বস্ত্রসামগ্রীসহ
ঘাট থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসছে।
এ অবস্থা দেখে সকলেই ছুটে এলো হযরত ঈসা (আঃ)
এর খেদমতে। এসে আরয করলঃ হে আল্লাহর নবী!
ধোপার তো কিছুই হলো না। আপনার অংগীকার পূর্ণ
হলো না।
হযরত ঈসা (আঃ) বললেনঃ তাকে আমার
কাছে ডেকে আন।
তার অবস্থা আমি দেখি।
ডেকে আনা হলো আদেশ মত। হযরত ঈসা (আঃ) তাকে
জিজ্ঞেস করলেনঃ আজ তুমি কি কাজ করেছো?
কী নেক
আমল করেছো শুনি!
ধোপা বলল হে আল্লাহর নবী! পথে একজন ক্ষুদার্ত
ভিক্ষুক পেয়েছিলাম। আমার কাছে তিনটি রুটি ছিল
যা তাকে দিয়ে
দিয়েছি। সে আমার প্রতিটি রুটির বিনিময়ে একটি
করে দু'আ করেছে।
হযরত ঈসা (আঃ) বললেনঃ ধোপা! তোমার কাপড়ের
গাঁটরি খোল! খোলার পর দেখে তার মধ্যে একটি
কৃসণবর্ণ বিষাক্ত সাপ। তার মুখে লোহার লাগাম
আঁটা।
হযরত ঈসা (আঃ) সাপকে ডাকলেনঃ আসওয়াদ!
সাপ বললঃ লাব্বাইক ইয়া রুহুল্লাহ! আমি উপস্থিত হে
আল্লাহর প্রিয়নবী!
বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কি তোকে এই ধোপাকে
ধ্বংস করার জন্যে পাঠাননি?
বললঃ হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলা তো এই আদেশই
দিয়েছেন।
আমাকে বলা হয়েছিল, অমুক নামের এক ধোপা
অমুক ঝর্ণায় কাপড় ধোয়ার জন্যে গিয়েছে।
তাকে গিয়ে দংশন কর। আমি এই উদ্দেশ্যেই তার
গাঁটুরিতে আশ্রয় নিয়েছি সুযোগের অপেক্ষায়।
কিন্তু সে যখন সদকা করেছে ক্ষুধার্ত
ভিক্ষুককে হালাল খাবার দান করেছে তখন
ভিক্ষুক তার জন্য দু'আ করেছে। আল্লাহ
তা'আলা তার
দু'আ কবুল করেছেন। একজন ফিরিশতা আসমান
থেকে নেমে এসেছেন। ফলে আমি আমার দায়িত্ব আর
পালন করতে পারি নি।
তখন হযরত ঈসা (আঃ) বললেনঃ হে ধোপা! তুমি
এখন থেকে নতুন করে আমল করা শুরু কর।
আল্লাহ তা'আলা তোমার অতীতের সব গোনাহ মাফ
করে
দিয়েছেন, তোমার দানের বরকতে। তোমার হায়াতেও
বরকত দান করেছেন।
বিঃদ্রঃ রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমল
বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে বেশি বেশি দান করার তৌফীক দান করুন।
* হযরত সোলায়মান (আ.)-এর যুগের একটি ঘটনা।জনৈক এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে ছিল একটি গাছ। সেই গাছে ছিল একটি পাখির বাসা।সেই বাসায় পাখিটি যখনই ডিম দিত তখনই লোকটি তা নিয়ে খেয়ে ফেলত। লোকটির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন পাখিটি হযরত সোলায়মান (আ.)-এর কাছে অভিযোগ করল। সোলায়মান (আ.) লোকটিকে ডেকে নিষেধ করে বললেন, আর কোনো দিন যেন ঐই পাখির ডিম সে না খায়। হযরত সোলায়মান( আ.)এর নিষেধ অমান্য করে লোকটি আবারো পাখির ডিম খেয়ে ফেলল।নিরুপায় হয়ে পাখিটি পুনরায় হযরত সোলায়মান (আ.)-এর কাছে অভিযোগ করল। সোলায়মান (আ.) এক জিনকে নির্দেশ দিলেন- লোকটি এবার যখন গাছে চড়বে, তখন খুব জোরে তাকে ধাক্কা দিয়ে যেন নিচে ফেলে দেয়, যাতে লোকটি আর কোনো দিন গাছে চড়তে না পারে। এর পর একদিন লোকটি পাখির ডিমের জন্য গাছে উঠতে যাবে, এমন সময় এক ভিক্ষুক এসে হাঁক দিল বাবা! কিছু ভিক্ষা দিন। তখন লোকটি প্রথমে ভিক্ষুককে এক মুষ্টি খাবার দান করল। তারপর শান্ত মনে গাছে থেকে ডিম নামিয়ে খেয়ে ফেলল। পাখিটি আবার সোলায়মান (আ.)-এর কাছে অভিযোগ করল। সোলায়মান (আ.) সেই জিনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নির্দেশ পালন করলে না কেন? তখন জিন জবাব দিল, আমি আপনার নির্দেশ পালন করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।
এমন সময় পূর্ব ও পশ্চিম থেকে দুজন ফেরেস্তা এসে আমাকে অনেক দূরে ফেলে দিল। সোলায়মান (আ.) বিস্মিত হয়ে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন, জিনটি বলল, আমি দেখলাম, লোকটি গাছে ওঠার আগে জনৈক ভিক্ষুককে এক মুষ্টি খাবার দান করল। সম্ভবত এর বরকতে আল্লাহপাক তাকে আসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। সোলায়মান (আ.) বললেন, হ্যাঁ সদকা বালা-মুসিবত দূর করে। এ কারণেই সে তখন মহাবিপদ থেকে বেঁচে গেছে।( তাযকেরাতুল আম্বিয়া)
Comments
Post a Comment