*  ফেরাউনকে আল্লাহ কত যে ক্ষমতা দিয়েছিলেন-যুখরুফ-৫১ 

وَنَادَىٰ فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَـٰذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِن تَحْتِي ۖ أَفَلَا تُبْصِرُونَ


(আয্‌-যুখরুফ - ৫১)

ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদী গুলো আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি দেখ না?

تَحْتِي--আমার অধীনে,,

                                          আমার নিম্নদেশে


*  একবার অনাবৃষ্টির জন্য দেশে দারুণ অজন্মা হয়েছিলো। এমন কি নীলনদের পানি পর্যন্ত শুকিয়ে গিয়েছিলো। প্রজারা সুযোগ মতো বাদশাহকে বললোঃ জাঁহাপনা আপনি যদি খোদা হন, তবে আপনি খোদার মতো ক্ষমতা আমাদের একবার দেখান।এবার বৃষ্টির অভাবে নীলনদ পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে এবং মাঠের সমস্ত ফসল পুড়ে গেছে। আপনি নীলনদ পানিতে পূর্ণ করে আমাদের ফসল রক্ষা করে দেবার ব্যবস্থা করে দিন।

এবার ফেরাউন বড় বিপদে পড়লেন! কিন্তু চতুরতার সঙ্গে তাদের আশ্বাস দিয়ে বললেনঃ এর আর এমন বেশি কথা কি! আগে এ সংবাদ আমায় জানাও নি কেন? আজ আমার অনেক কাজ-আজ সময় হবেনা। আগামীকাল তোমাদের নীলনগ পানিতে ভর্তি করে দেবো। তোমরা সেই পানি দিয়ে ফসল রক্ষা করো।

প্রজারা খুশী হয়ে বাড়ি চলে গেলো।

প্রজারা বিদায় হলে ফেরাউন চিন্তা করতে লাগলেন, কি করা যায়! সারাদিন কেটে গেলো –তারপর সন্ধ্যা হয়ে এলো। গভীর রাত্রে একাকী ঘোড়ায় চড়ে রাজধানী থেকে বেরিয়ে পড়লেন। শহর থেকে ময়দান পার হয়ে গ্রাম, গ্রাম পার হয়ে এক ভীষণ জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করলেন। সেখানে ছিল এক মস্ত বড় কূপ। সে কূপের ধারে এসে ফেরাউন ঘোড়া থেকে নামলেন। তারপর একগাছি দড়ি আপনার পায়ে বাঁধলেন, সে দড়ি একটা গাছের গোড়ায় শক্ত করে বেঁধে সেই কূপের মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন। দোদুল্যমান অবস্থায় তিনি উচ্চঃস্বরে কেঁদে কেঁদে খোদার কাছে প্রার্থনা করতে লাগলেনঃ হে দয়াময় প্রভু, তুমি অনেক পাপীর ইচ্ছা পূরণ করছো। এক্ষণে আমি বিপদগ্রস্ত। আমাকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করে মালিক। এবারের মতো তুমি আমার মান বাঁচাও। তা’না হলে আমি রাত্রি প্রভাতে আর কারো কাছে মুখ দেখাতে পারবো না। পরকালে তুমি আমাকে যে শাস্তি হয় দিও।


 ফেরাউন যখন আল্লাহ পাকের দরবারে এরূপ ক্রন্দন করছিল ৷ ঠিক তখন ঐ একটি লোক এসে গুহার দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরাউন কে বলল ,জাহাঁপনা আমি আপনার নিকট লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছি, আপনি আমার অভিযোগটি শুনে ন্যায্য বিচার করে দিন ,লোকটির কথা শুনে ফেরাউন বলল বাপু এটাতো বিচারের স্থান নয় ,এখানে কেন এসেছ ? কে তোমাকে আসতে বলেছে এখানে অভিযোগ নিয়ে? তুমি এখন যাও আগামীকল্য  দরবারে গিয়ে অভিযোগ কর ৷ আমি তা ভালভাবে শুনে বিচার করে দিব ৷ কিন্তু লোকটি বলল না আমি বিচার না শুনে কিছুতেই এখন থেকে যাব না ৷  আর আপনাকেও এখান হতে বের হতে দিবোনা  ৷ আপনি যাই বলুন না কেন আপনাকে এখনো বিচার করতে হবে  ৷ এ সময় ফেরাউন নীলনদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখল যে তা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে  ৷ এই দৃশ্য দেখে সে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বাইরে যাবার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ল ৷  এবং আগন্তুক লোকটিকে লক্ষ্য করে বললো, আগুন্তক এবার বলো দেখি তোমার অভিযোগটি কি শুনি ? লোকটি বলল জাহাপনা আমার অভিযোগটি আপনার নিকট পেশ করবার পূর্বে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ,আপনি এর সঠিক জবাব দিবেন , ধরুন একটি গোলাম তার প্রভুর সম্পূর্ণ অবাধ্য , এতদসত্ত্বেও তার প্রভু তার সাথে সর্বদা উত্তম আচরণ করে , তাকে উত্তম ভরণপোষণ দেয় , তা সত্য গোলাম তার মনিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে বরাবরের মতোই অকৃতজ্ঞ পরিচয় দেয় , এখন এই অকৃতজ্ঞ গোলামের সাথে ওই মনিবের কিরূপ আচরণ করা উচিত,  ফেরাউন বলল এরূপ গোলামকে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মারা উচিত  ৷ আগন্তুক বলল এটা কি মনিবের জন্য সঠিক আচরণ হবে?  ফেরাউন বলল নিশ্চয় ৷  আগন্তুক বলল এটা তো আপনি মুখে বলেন কিন্তু কাগজে লিখে দিতে পারবেন কি?  ফেরাউন বলল পারব না  ৷ এখানে যদি আমার নিকট কাগজ-কলম থাকত তবে এখনই লিখে দিতাম ৷  আগন্তুক কলম বের করে দিয়ে বলল তবে লিখেই দেন ৷ তখন ফেরাউন লিখে দিল যে কোন অকৃতজ্ঞ গোলাম যাকে তার মনির উত্তম ভরণপোষণও আরো বহু কিছু দেয়া সত্ত্বেও তাঁর অবাধ্য হয়ে যায় তাকে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মারা উচিত  ৷ এ কথা লিখে নিচে তার নামটিও স্বাক্ষর করে কাগজ খানি আগন্তুক-এর হস্তে অর্পণ করল ৷  তৎক্ষণাৎ আগন্তুক লোকটি এটা নিয়ে চলে গেল  ৷ এই আগন্তুক আর কেউ নয় এই ছিল আল্লাহ হযরত জিবরাঈল আঃ সালাম ৷  ফেরাউন এক অদৃশ্য  আওয়াজ শুনলে হে ফেরাউন  আজ থেকে নীল নদ কে তোমার সম্পূর্ণ অধীন করে দেয়া হল ৷ তুমি যখনি প্রবাহিত হতে বলবে তখনই প্রবাহিত হবে আর যখনই প্রবাহিত হতে নিষেধ করবে তখন হয়ে যাবে


এই দৈববাণী শুনে ফেরাউন আনন্দে অধীর হয়ে কূপ থেকে উঠে রাজধানীর দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন। রাত্রি প্রভাত হতে না হতেই প্রজারা প্রসাদের সমুখে এসে সমবেত হতে লাগলো। ফেরাউন তাদের সঙ্গে নিয়ে নীলনদের কাছে এসে হাজির হলেনঃ চিৎকার করে বললেনঃ নীলনদ পানিতে পূর্ণ হয়ে থাকো।

কথা শেষ হতে না হতে শুষ্খ নদীর তটভূমি জোয়ারের পানিতে ভরে উঠলো। দিগন্ত বিস্তৃত শস্যক্ষেত্র পানিতে পরিপ্লুত হয়ে গেলো।

প্রজারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করলোঃ জাঁহাপনা জমি জমা ডুবে গিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাবার মতো হলো। হুজুর আমাদের জমির পানি একটু কমিয়ে দেবার ব্যবস্থা করুন।

ফেরাউন তাদের প্রার্থনা মতো নীলনদকে আদেশ করলেন। পানি সরে গেলো প্রজারা খুশী হয়ে তাকে খোদা বলে বিশ্বাস করে নিলো। এরা কপতী শ্রেণীর লোক। কিন্তু বনি ইসরাইল নামে অপর এক শ্রেণীর লোক ছিল, তারা তাকে কোনক্রমেই খোদা বলে স্বীকার করলো না। কিন্তু ফেরাউন নানা অসম্ভব ও আশ্চর্য কাজ করে প্রজাদের মনে দিনে দিনে বিশ্বাস জন্মিয়ে দিতে লাগলেন যে, তিনিই প্রকৃত খোদা।


*  #দীঘ ৩১১৬ বছর পানির নীচে থাকা সত্ত্বেও ফেরাউনের লাশ পচে নি / যা আল্লাহ কুরানে সুরা ইউনুস ১৪০০ বসর আগে বলে দিয়েছে/ আর এই লাশ উপর গবেশনা করে কুরানের আয়াত সত্য প্রমান পেয়ে ইসলাম গ্রহন করেন ড. মরিস বুকাইলি।


#কোরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন ফেরাউন ডুবে মারা গেছে আর মৃত্যুর পরও তার শরীর অক্ষত রাখা হবে, পরবর্তি সীমালংঘনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে।


যখন মুসা আঃ) লহিত সাগর পার হয়ে গেল তখন তিনি আল্লাহ কাছে পারথনা করেন জেন এই রকম কাফের আল্লাহদ্রহি কে আল্লাহ সংরক্ষণ করে রাখেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য । আল্লাহ তার দুয়া কবুল করেন


#আল্লাহ বলেন , 

"বনী ইসরাইলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী, অত:পর তাদের পশ্চাদ্ভাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্ধেশ্যে, এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করলো, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি কোন মাবুদ নেই তিনি ছাড়া যার ইবাদত করে বনী ইসরাঈলরা। অতএব আজকের দিনে রক্ষা করছি আমি তোমার দেহকে যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। নি:শন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।" (সূরা ইউনুস:৯২)।


#ফেরাউনের মৃত দেহটিকে ১৮৮১ সালে মিশরের এক নদীর উপত্যকায় (পাহাড়ের মাঝখানে, যেখান দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়েছে ) পাওয়া গিয়েছিল (পাও্যা যাবে যা এই আয়াতে বলা হয়েছে)


ফেরাউনের দেহটি যখন পাওয়া যায়, তখন ঐ দেহটির বয়স হয়েছিল প্রায় ৩১১৬ বছরের মত । আল্লাহর নবী হযরত মুসা (আঃ) ঐ পাপিষ্ঠ ফেরাউনকে অনেকবার ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন ; কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ঐ নাফরমান ফেরাউন, নবী মুসা (আঃ) এর আহবানে সাড়া তো দেয়নি

আল্লাহ তখন ঐ নাফরমানকে নদীতে ডুবিয়ে মেরেছেন এবং মানবজাতির নিদর্শনের জন্য তার মৃত দেহ সংরক্ষন করেছেন ।


#ফেরাউন লাশ পাওয়ার পর মিশরে রাখাছিল পরে 

১৮৯৮ দিকে আশির দশকের শেষের দিকে ফিরাউনের মমিকে নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য মিসরের ফিরাউনের লাশ প্লেনে করে প্যারিসে নিয়ে আসা হল।


#মমি গবেষণার প্রধান প্রফেসর ড. মরিস বুকাইলি ইসলাম গ্রহন


#মমি গবেষণার প্রধান সার্জেন ছিলেন প্রফেসর ড. মরিস বুকাইলি। আর ড.মরিস বুকাইলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন যে, কীভাবে ফেরাউন মারা গিয়েছিল! আর কয়েক হাজার বছর ধরে কীভাবে লাশটা অক্ষত রইল।


পরীক্ষাগারের রিপোর্ট আসলো। যাতে বলা হয়েছে তার শরীরে লবণের অংশ আছে আর ইহাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, সে পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল আর মৃত্যু বরণের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র (লোহিত সাগর) থেকে তোলা হয়েছিল তারপর লাশ দ্রুত মমি করা হয়েছিল। এখানে ফিরাউনের মমিটি প্রফেসর মরিসকে অবাক করে দিল,


=>যে কিভাবে এই মমি অন্য মমিদের তুলনায় সুরক্ষিত অবস্থায় থাকল, যা এটা সমুদ্র থেকে তোলা হয়েছে। কারণ ভিজা পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে আর প্রতিটি আদ্র বা ভেজা বস্তুকে দ্রুত ধ্বংস করে দিয়ে থাকে।


=>একজন ব্যক্তি তাকে বলল যে, মুসলমানদের কুরআনে নাকি ফিরাউনের ডুবে যাওয়া ও তার লাশ সংরক্ষণের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা আছে। এই ঘটনা শুনে ডা. মরিস বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং প্রশ্ন করতে লাগলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? এই মমি পাওয়া গিয়েছে ১৮৮১ সালে, আর কুরআন নাজিল হয়েছে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে! আর প্রাচীন আরবেরা তো মমি করার পদ্ধতিই জানতো না,


=>তিনি বাইবেলে ফেরাউনের লাশ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তিনি দেখলেন,বাইবেলে ফিরাউন কর্তৃক মুসার পিছু নেয়ার কথা বলা আছে কিন্তু ফিরাউনের লাশের পরিনতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলা নাই। তিনি তোরাহ (তাওরাত) আনালেন এবং সেটা পড়লেন। তোরাহতে বলা আছে, পানি আসলো এবং ফিরাউনের সৈন্য এবং তাদের যানবাহন গুলোকে ঢেকে দিল, যারা সমুদ্রে ঢুকল তাদের কেউই বাঁচতে পারল না। ড.বুকাইলি আশ্চর্য হয়ে দেখলেন যে, তাওরাতে লাশের সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।


একজন মুসলিম বিশেষজ্ঞ পবিত্র কুরআন খুললেন এবং আয়াতটা ড. বুকাইলিকে শুনালেন যেখানে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা বলেন, “অতএব, আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।”আল-কুরআন; সুরা:১০,আয়াত-৯২


তিনি কুরআন গবেষণা করে দেখেন যে, আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বের কুরআন আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে পুরো সঙ্গতিপূর্ণ।কী আশ্চর্য,কী অবাক করা কথা! কুরআন মহাসত্য। আসমানী কিতাব! তিনি উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন যে, আমি ইসলামে প্রবেশ করেছি


#ডা. মরিস বুকাইলি ফ্রান্স ফিরে গেলেন এক ভিন্ন অবস্থায়। ফ্রান্সে ১০ বছর তিনি আর কোন ডাক্তারি প্রাকটিস করেন নি বরং এইপবিত্র কুরআন নিয়ে গবেষনা করেছেন। সব শেষে তিনি পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারলেন যাতে বলা আছে,

“এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” সুরা-৪১, আয়াত-৪২


ফেরাউনের লাশ এখন সংরক্ষিত যা সত্য প্রমান বহন করে সুরা ইউনুস এই আয়াতের

Comments

Popular posts from this blog