* আ: কাদের জিলানী র: কে দাওয়াত দিল,বেচারার একটা ছেলে, একটা ঘর, তিন হাজার টাকা আছে,
একজন কল্যাণকামী সৎ সাধকের চিন্তা - চেতনার নমুনা একদিন এক ব্যক্তি বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী ( রহ : ) কে দাওয়াত দিল যে , অমুক তারিখে আমার বাড়িতে আপনার খাবার দাওয়াত । হযরত তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে , তােমার সন্তান কয় জন ? সে বলল , শুধু এক ছেলে । আবার জিজ্ঞাসা করলেন , ঘর কয়টা ? সে বলল , একটা । আবারাে জিজ্ঞাসা করলেন , টাকা কত আছে ? বলল , মাত্র তিন হাজার টাকা আছে । তখন হযরত বললেন , যাও ! আমি সময় মত চলে আসব । হযরত সময় মত রওয়ানা হলেন , পথে এক ব্যক্তি বলল , হুজুর সে একজন মিথুক লােক , তার ঘরে দাওয়াত খাওয়া আপনার মত ব্যক্তির জন্য শােভা পায় না । তখন , হয়রত বললেন , ঠিক আছে ওয়াদা যেহেতু করেছি তাই যেতে হবে । কেননা , ওয়াদা রক্ষা করা ওয়াজিব । হ্যা , সেখানে যাওয়ার পর সে যদি মিথুক বলে প্রমাণিত হয় তাহলে না খেয়ে চলে আসব । একথা বলে সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন । একটু এগুতেই একটি সুন্দর ফুটফুটে ছেলে দৌড়ে আসল এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে হযরতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল । হযরত তাকে জিজ্ঞাসা করলেন , তুমি কে ? ছেলেটি বলল , যিনি আপনাকে দাওয়াত করেছেন আমি তারই ছেলে । অত : পর হযরত তাকে জিজ্ঞাসা করলেন , তােমরা কয় ভাই এবং তােমাদের কয়টি ঘর আছে ও টাকা - পয়সা কেমন আছে ? উত্তরে ছেলেটি বলল , আমরা আট ভাই আর এই পাড়ায় যত ঘর দেখছেন সবই আমাদের , আর টাকা পয়সার কোন হিসাব নাই , আমরা বহু টাকা পয়সার মালিক । হযরত ছেলেটির কথা শুনে মনে মনে অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন । অতঃপর ঘরে প্রবেশ করতেই লােকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন , তুমি আমার সাথে প্রধানা করলে কেন এবং মিথ্যা বললে কেন ? তােমার আট ছেলে অথচ তুমি বলেছিলে এক ছেলে । তােমার অনেক ঘর - বাড়ী , অথচ তুমি বলে ছিলে একটি ঘর আছে । তােমার টাকা পয়সার হিসাব নাই , তুমি বহু টাকা - পয়সার মালিক , অথচ তুমি বলেছিলে মাত্র তিন হাজার টাকা আছে । হযরতের মুখে এসব কথা শুনতেই লােকটি অনুনয় করে বলল , হুজুর আমি আপনার সাথে মােটেই প্রবঞ্চনা করিনি যা বলেছি সব ঠিক ঠিক বলেছি । কেননা , আপনাদের মুখেই শুনেছি যে , নেক সন্তানই একমাত্র সন্তান এই হিসাব অনুযায়ী আট জনের মধ্যে এই একটিই আমার ছেলে । আর বাকী সাত জন তারা ছেলে নয় ‘ টেলে । এই একটি ছেলেই সর্বদা আমার পাশে থাকে এবং আমার যাবতীয় খেদমতের আঞ্জাম দেয় । নামাজের সময় হলে ওজুর পানি এনে দেয় , গোসলের সময় হলে নিজ হাতে আমাকে গােসল করিয়ে দেয় , খাওয়ার সময় হলে যথাযথ সময়ে খাবার ব্যবস্থা করে , ঘুমের সময় হলে বিছানা পরিস্কার করে দেয় এবং মাথায় তেল দিয়ে হাত পা টিপে দিয়ে আমার ঘুমের ব্যবস্থা করে এবং সেও সাথে গুমিয়ে যায় । আবাৱ শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময় হলে আমার হাত পা নারিয়ে দেয় এবং বলে যে , আব্বু উঠেন , তাহাজ্জদের নামায পড়েন , যে আল্লাহ সবকিছু দিয়েছেন ও এত আরামের ঘুমের সুযােগ করে দিয়েছেন , তাকে স্মরণ করেন । এভাবে সে । নিজেও তাহাজ্জুদ পড়ে এবং আমাকেও তাহাজ্জুদ পড়ায় এবং আমার যাবতীয় খেদমত করে । আর বাকী সাত ছেলে নামায পড়ে না , কখনাে আমার খোঁজ খবৱ নেয় না , বরং আরাে জ্বালা - যন্ত্রনা দেয় । ওদের জন্য টাকা - পয়সা রাখা যায় । । বাজার থেকে কিছু আনলে হাতাহাতি করে খেয়ে সব শেষ করে দেয় । আমার জন্য কিছুই রাখে না । এছাড়াও ওদের গড়ার কারণে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে চাইতে আমার ইজ্জত - সমান সৰ শেষ । এ জন্যই আমি বলেছি , আমার সন্তান একজন । অতঃপর হযরত বললেন , তুমি যথাযথ ঠিক বলেছ । তারপর লােকটি বলল , হুজুর আমি ওলামায়ে কেরামদের মুখে শুনেছি যে , এই দুনিয়ার ঘরবাড়ী আসল গৱবাড়ী নয় । সব ছেড়ে একদিন সাড়ে তিন হাত মাটির ৫ নিচে কবরে যেতে হবে । অতএব কে সুন্দর কর ও বাড়ী বানাও হুজুর । সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইরশাদ করেন
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِبَعْضِ جَسَدِي فَقَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ كَأَنَّكَ عَابِرُ سَبِيلٍ و
َعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ " .
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দেহ স্পর্শ করে বলেনঃ হে আবদুল্লাহ! দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করো যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী মুসাফির। তুমি নিজেকে কবরবাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করো। [৩৪৪৬]
তাহকীক আলবানীঃ (আরবি) বাক্যটি ব্যতীত সহীহ। রাওদুন নাদীর ৫৭৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪১১৪
হাদিসের মান: অন্যান্য
অর্থাৎ তুমি তােমাকে কবরের অধিবাসী হিসেবে জান । কেননা , এটাই তােমার আসল বাড়ী । আর একটি মানুষের জন্য । একটিই কবর হয়ে থাকে । এই জন্য আমি বলেছি আমার ঘর বা বাড়ী একটি । হযরত বললেন , তুমি যথাযথ সত্য বলেছ । অতঃপর টাকা পয়সা সম্পর্কে লােকটি বলল , হুজুর ওলামায়ে কেরামের শুনেছি , হাদীস শরীফে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ,
حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقْرَأُ { أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ} قَالَ "
يَقُولُ ابْنُ آدَمَ مَالِي مَالِي - قَالَ - وَهَلْ لَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مِنْ مَالِكَ إِلاَّ مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ أَوْ تَصَدَّقْتَ فَأَمْضَيْتَ
মুতার্রিফ (রাযিঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি …… (সূরাহ্ আত্ তাকা-সুর) পাঠ করছিলেন। তিনি বললেন, আদাম সন্তানগণ বলে, আমার মাল আমার সম্পদ। বস্তুতঃ হে আদাম সন্তান! তোমার সম্পদ সেটা যা তুমি খেয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছ, পরিধান করে পুরাতন করে ফেলেছ এবং দান করে খরচ করেছো। (ই.ফা. ৭১৫২, ই.সে. ৭২০৪)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৩১০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
অর্থঃ বনী আদম বলে থাকে যে , আমার মাল , আমার মাল , অথচ দুনিয়ায় রেখে যাওয়া কোন মালই তার মাল নয় । হ্যা , যা সে খেয়ে নষ্ট করে দিয়েই । আর যা সে পরিধান করে পুরানাে করে দিয়েছে । আর যা সে সদকা করে আগ্লাহর রিজার্ভ ব্যাংকে জমা রেখেছে । এ ছাড়া সব তার হাত ছাড়া হয়ে যাবে । এবং পরিত্যাগ হয়ে থাকবে ।এ হাদীসের মর্মার্থ অনুযায়ী আমি হিসাব করে দেখেছি যে , আমি তিন হাজার টাকার মত সদকা করেছি তাই আমি আপনাকে বলেছি যে , আমি তিন হাজার টাকার মালিক । এবার বলুন , আমি ঠিক বলেছি কি না ? অত : পর হযরত বললেন , ঠিকই বলেছ এবং সত্য কথা বলেছ । পরিশেষে হযরত তার ঘরে খাওয়া দাওয়া করলেন । কল্যাণকামী , সত্যের সাধক , খােদাভীরু একজন সত্যিকার ঈমানদারের চিন্তা - চেতনা , ধ্যান - ধারণা এমনি হওয়া উচিত
—(মাওয়ায়েযে সিরাজী - ৫/৬৯ )
Comments
Post a Comment