*  এক বুযুর্গ এসমে আজম জানতেন। তার সাগরেদ আবেদন করলো হুজুর আমাকে এসমে আজম শিখিয়ে দিন।

(এসমে আজম এমন একটা দোয়া,যেটা পড়ে আল্লাহর নিকট কোন ফরিয়াদ করেলে,আল্লাহ পাক সাথে সাথে ফরিয়াদ কবুল করবেন,)বুযুর্গ বললেন তুমি এটা সহ্য করতে পারবে না। সে খুব পীড়পীড়ি করতে লাগলো যে, হুজুর আমাকে এসমে আজম শিখিয়ে দিন। আমি সহ্য করতে পারবো। হুজুর বলিলেন, একশর্তে শিখিয়ে দিতে পারি,বললেন কি শর্ত? হুজুর বললেন,শর্ত হল,আগামি কাল চৌরাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে থাকবে এবং কোন ঘঠনা দেখলে আমাকে জানাবে,তারপর শিখিয়ে দিব,তাই হল,লোকটি পরদিন চৌ,রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে দেখল,দৃশ্যটা এমন,একজন খুবই বৃদ্ধ,অসুস্থ ব্যক্তি মাথায় করে এক বোঝা মালপত্র দোকান থেকে উঠাইয়া একটা ঘোড়ার পিঠের উপর তুলিয়ে দিল,ঘোড়ার উপর বসে থাকা একজন যুবক,, বৃদ্ধটিকে কোন পারশ্রমিক না দিয়ে পা দিয়ে লাথি মেরে ঘোড়াটিকে চাবুক শাষিয়ে চলে গেল,,বৃদ্ধটা মাটিতে পরে ফেল ফেল করে তাকিয়েই রইলেন,

হুজুর গল্পটা শুনে প্রশ্ন করলেন,,

তোমার যদি এসমে আজম জানা থাকত তাহলে কি করতে? উত্তর দিলেন মুরিদ, আমার এসমে আজম জানা থাকলে আমি সাথে সাথে এসমে আজম পড়ে আল্লার নিকট ফরিয়াদ করতাম, ইয়া আল্লাহ,এইরকম জুলুম বাজ অত্যাচারিকে তুমি এখনি ঘোড়া থেকে ফেলে দিয়ে বৃদ্ধার সামনে তার হাত পা ভেংগে দাও,

মুচকি হেঁসে হুজুর বললেন,তুমি কি জান? ঐ বৃদ্ধটা কে? না,আমি জানিনা,হুজুর বললেন,ঐ বৃদ্ধটা আমার ও ওস্তাদ, উনার কাছেই আমি এসমে আজম শিখেছি,,তাই বলা হচ্ছে এসমে আজম যদি আমাদের সবাইকে শিখানো হতো, তাহলে আমরা বদ দোয়া করে অনেককে শেষ করে দিতাম।এসমে আজম জানলে আমরা নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারতাম না। যাহোক যা বলা হচ্ছিল মানুষের মনের পাক্কা ইরাদা বা হিম্মত হলো এসমে আযমের মতো,হিম্মত করলেই রোযা রাখা সম্ভব। মুরিদ আর কিছু বলেন নাই,,অন্তত এতটুকু শিক্ষা পেলেন,,

আল্লাহ ওয়ালা যিনি নিজেকে দাবি করবেন,,অন্তত এই গুনটা থাকতে হবে,কেউ হাজার কস্ট দিলেও তাকে অভিশাফ দিবেনা,প্রতিশোধ নিবেনা,,প্রতিশোধ নে,,যাদের ঈমান দুর্বল,,আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর ফয়সালার উপর ছেড়ে দেন,আর আল্লাহ নিশ্চই ভাল প্রতিদান দিবেন,,

বয়ান ও খুতবা পৃ:-1/288

*  রূহের প্রভাব দেহের মধ্যে পড়ার ঘটনা,এক বুযুর্গ তার খানকায় লোকজনের ভিড়ের কারনে নিজের মন মতো ইবাদত বন্দেগী ও জিকির আজকার করতে পারতেন না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি পাহাড়ের গুহায় গিয়ে একা একা থাকবেন এবং মনের মতো যিকির আযকার করবেন। তিনি এক পাহাড়ের গুহার সন্ধান করলেন। গুহায় প্রবেশ করার আগে মুরীদগনকে বললেন। আমি এই গুহায় প্রবেশ করার পর ঐ পাথরের খন্ডটি তোমরা গড়িয়ে এনে গুহার মুখ বন্ধ করে দিও।যেন কোন লোক আমার কাছে না আসতে পারে।মুরীদগন দেখলো পাথরের খন্ডটি এক মানুষ সমান লম্বা এবং ঐ পরিমানই চওরা। পাথরটি সরাতে কয়েকটি হাতির শক্তির দরকার। কিন্তু সে রকম পোষা হাতী কোথায় পাবে? তাই খানকার সমস্ত মুরীদ মিলে পাথরটিকে ঠেলে গড়িয়ে কোন রকমে এনে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল।বুযুর্গ এই বার মনের মতো করে ভিতরে থেকে এবাদত বন্দেগী ও যিকির আযকার করতে লাগলেন। চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোন কিছু আহার করলেন না। অবিরাম জিকির আজকার ও মোরাকাবা মুশাহাদা করার পর যখন মন ভরে গেল তখন গুহা থেকে বাহির হতে ইচ্ছে করলেন। কিন্তু গুহার মুখে এমন এক পাথর চাপা দেওয়া ছিল যে ভিতর থেকে ডাকলে বাহিরে শব্দ আসতো না। তিনি কোন কিছুর অপেক্ষা না করে দুই হাতে পাথরকে এমন জোড়ে ধাক্কা দিলেন যে পাথর ছিটকিয়ে একদিকে গিয়ে পড়লো।আর তিনি বাহির হয়ে আসলেন।এই হলো দেহের উপর রুহানি শক্তির প্রভাব (বয়ান ও খুতবা ১/৩৪১)

*  হযরত উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস হযরত কুরাইবকে শাম দেশের গভর্নর, হযরত মু‘আবিয়াহ (রাঃ) -এর নিকট সিরিয়াতে কোন দরকারে পাঠালেন, জুমার দিন রোযা রাখেন,সুনানে আবু দাউদ-২৩৩২ সহিহ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)- এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃউম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস তাকে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) এর নিকট সিরিয়াতে কোন দরকারে পাঠালেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়া এসে তার কাজটি পুরা করি। এমতাবস্থায় রমাযানের চাঁদও উদিত হলো। আমরা সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখি। রমাযানের শেষদিকে আমি মদিনায় ফিরে এলে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বিভিন্ন আলোচনার পর চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কখন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, আমি বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি স্বচক্ষে চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ, লোকেরাও দেখেছে এবং সওম রেখেছে এবং মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-ও সওম রেখেছেন। তিনি বললেন, আমরা চাঁদ দেখেছি শুক্রবার সন্ধ্যায়। সুতরাং আমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়া অথবা (শাওয়ালের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন অব্যাহত রাখবো। তখন আমি বললাম, মু‘আবিয়াহর চাঁদ দেখা ও তাঁর সওম পালন কি আপনার সওম পালন ও ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি উত্তর দিলেন, না, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে এরূপই নির্দেশ দিয়েছেন।সুনানে আবু দাউদ,হাদিস নং ২৩৩২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Comments

Popular posts from this blog