*। আল্লাহ হেদায়েত দেননি,তাই গুনাহ করি
এক ভাই বললেন, কুরআনে আছে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন, যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন। যেহেতু আল্লাহই হেদায়েত দিচ্ছেন না, তখন আমার কী দোষ?
.
আমি তাকে বললাম, মুসা (আঃ) যখন ফেরাউনের ধাওয়া খেয়ে লোহিত সাগরের তীরে পৌঁছালেন, সেই সময়ের কথা চিন্তা করুন, সামনে সাগর পিছনে ফেরাউনের বাহিনী। মূসা (আঃ) সঙ্গী-সাথীরা ফেরাউনের বাহিনীকে দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বলাবলি করতে লাগল, "আমরা তো এবার নিশ্চিত ধরা পড়ে গেলাম"। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ চোখের পলকে সমুদ্রে রাস্তা করে দিতে পারতেন। আল্লাহ "কুন" বললেই তো সব হয়ে যায়। তিঁনি "কুন" বললেই সমুদ্রের পানি ভাগ হয়ে রাস্তা তৈরি হয়ে যেত। কিন্তু মহাজ্ঞানী আল্লাহ সেটা করলেন না। আল্লাহ তখন মূসাকে (আঃ) তার হাতের লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করতে বললেন, কিন্তু কেন?
.
এর কারণ হল, মহান আল্লাহ চান, মানুষ তাঁর সাহায্য পাওয়ার জন্য কিছু করুক! তাই লাঠি মারার কাজটা মানুষকেই করতে হবে, শুরুটা আপনাকেই করতে হবে। লাঠি আপনাকেই মারতে হবে, তবেইনা অন্ধকার ফুঁড়ে আলো বের হবে, গভীর সমুদ্রে রাস্তা তৈরী হবে। হাত গুটিয়ে বসে থাকলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়না। আল্লাহ কাউকে ভাত রেঁধে খাওয়ান না, গ্লাসে পানি ঢেলে দেন না, কাউকে ঘাড়ে ধরে হেদায়েত দেন না। হেদায়েত পাওয়ার জন্য লাঠি আপনাকেই মারতে হবে।
.
কিন্তু লাঠি মারার সময়ে আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সেই কঠিন সময়ে মূসা (আঃ) কিন্তু বলেননি, "এখন সমুদ্রের পানিতে লাঠি মেরে কী লাভ? আগে বাঁচাও, পরে লাঠি মারা যাবে"। তেমনি ইউসুফ (আঃ) কিন্তু বলেন নি, বন্ধ দরজার দিকে দৌড়ে গিয়ে কী লাভ? মারইয়াম (আঃ) বলেননি, দূর্বল শরীরে গাছের প্রচণ্ড শক্ত কাণ্ড নাড়ানোর চেষ্টা করে কী লাভ? আমরাও যেন এমনটা না বলি৷"
.
Comments
Post a Comment