হযরত মুসা (আঃ) একদা চুল, দাড়ি পেকে সাদা হয়ে যাওয়া অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির দেখা পেলেন যিনি দিনভর নফল রোজা রাখেন ও দীর্ঘ সময় নফল নামাযে অতিবাহিত করে আল্লাহর নিকট হাত তুলে দোয়া মোনাজাতে এত বেশি কাঁদছিলেন যে তার চোখের পানিতে গাল ও দাড়ি ভিজে ফোটায় ফোটায় জমিনে পড়ছিল। বৃদ্ধের ইবাদত সাধনা ও কান্না দেখে মুসা (আঃ)-এর খুব মায়া হলো। তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে কথা বলতে গিয়ে আল্লাহকে ঐ বৃদ্ধের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তার নাম অলি দফতরে আছে কি না। আল্লাহ জবাবে বললেন, অলি হওয়ার দূরের কথা ঐ বৃদ্ধের কোন দোয়া ও ইবাদত কবুল হচ্ছে না। আল্লাহর জবাব শুনে মুসা (আঃ) খুব ব্যথিত হয়ে চুপ করে রইলেন। তখন আল্লাহ বললেন, কিভাবে তার দোয়া ও ইবাদত কবুল হবে তার দেহে হারাম খাদ্যে সৃষ্ট গোশত বিদ্যমান।
* হযরত উসমানগণী কালবের চোখ দিয়ে বালকের দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্হানে পরার দৃশ্যটা দেখতে পান: হযরত উসমানগণী রাযি.-এর কাছে একব্যক্তি এল যার দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্থানে পড়েছিল। তিনি লোকটির চোখ দেখেই বুঝে ফেললেন। বললেন- مَا بَالُ أَقْوَا مٍ يَتَرَشَّحُ الزِّنَا مِنْ أَعْيُنِهِمْ ‘এজাতির কী হয়ে গেল! তাদের চোখ দিয়ে ব্যভিচার টপকে পড়ছে।’ লোকটি অবাক হয়ে গেল। ( মনে মনে ভাবল,আমি কুদৃষ্টতে পরনারীর দিকে তাকানোর এই ঘটনা কেমন করে জানলো,আল্লাহর পয়গাম্বরগন অহীর মীধ্যমে যানতেন,আল্লাহর নবীতো চলে গেছেন,অহীর দ্বারা বন্ধ হয়ে গেছে,সুতরাং বলে ওঠল, এখনও অহির ধারা অবশিষ্ট আছে? উসমান রাযি. উত্তর দিলেন, না, এটা তো মুমিনের অন্তদৃষ্টি। اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَاِنَّهُ يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ ‘মুমিনের অন্তদৃষ্টিকে ভয় কর। কারণ তিনি আল্লাহর নূর দ্বারা দেখেন।’ কাশফের অধিকারীরা লিখেছেন, কুদৃষ্টির কারণে এমন অন্ধকার সৃষ্টি হয় যে, যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেরা ধরে ফেলেন। পক্ষান্তরে শালীন ও আল্লাহভীরুব্যক্তির চোখে থাকে নূর।
Comments
Post a Comment