হযরত ওমর ( রাঃ ) যখন খলীফা ছিলেন , তখন তার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ( রাঃ ) ছিলেন মলীফার ছেলে অর্থাৎ বাদশাহর ছেলে । আর হযরত হুসাইন ( রাঃ ) ছিলেন রাসূল ( সাঃ ) -এর নাতী । তাদের উভয়ের তখনও বয়স কম । একদিন হুসাইনের সাথে ইবনে ওমরের কথা কাটাকাটি হয়ে গেল । এক পর্যায়ে হুসাইন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরকে বললেন তুমি আমার নানার গোলামের পুত হয়ে আমাকে এমন বড় কথা বললে ? বোঝাতে চাইল যে , তোমার পিতা ওমর ছিল আমার নানা রাসুল ( সাঃ ) -এর গোলাম । তুমি সেই গোলামের ছেলে হয়ে এরকম কথা বললে ? একথা শুনে ইবনে ওমর রেগে গেল । এত বড় কথা ! আমি বাদশাহর ছেলে , আমাকে বলছ গোলামের পুত ! রেগে যেয়ে পিতার কাছে নালিশ দিল যে , হুসাইন আমাকে গোলামের পুত বলেছে । হযরত ওমর ( রাঃ ) সাহাবায়ে কেরামকে ডাকলেন যে , দরবার বসবে । এ কথার বিচার হবে । মানুষ মনে করল এবার বোধ হয় খলীফা হুসাইনকে শাস্তি দিবেন । যদি তাই হয় রাসুলের নাতিকে শাস্তি দেয়া হয় , তাহলে মদীনায় আল্লাহর গযব নেমে আসবে । ওমর এটা কী করতে যাচ্ছে । সাহাবায়ে কেরামের দরবার বসল । সকলে চিন্তা করছেন কী যেন ঘটতে যাচ্ছে । হযরত ওমর ( রাঃ ) হুসাইনকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি যে আমার ছেলেকে গোলামের ছেলে বলেছ , কেন বলেছ ? হুসাইন জওয়াব দিল কেন আপনি আমার নানার গোলামী করেননি ? তাহলে তো আপনি আমার নানার গোলাম । অতএব আপনার পুত্র গোলামের পুত্র বৈ কি ? তখন হযরত ওমর ( রাঃ ) বললেন আপনারা মদীনার সমস্ত সাহাবীরা সাক্ষী থাকুন রাসূলের নাতী স্বীকার করলেন যে , আমি বাসুলের গোলাম । আপনারা কি একথার সাক্ষী থাকলেন ? সকলে বললেনঃ হ্যাঁ আমরা সাক্ষী থাকলাম । তখন হযরত ওমর ( রাঃ ) আবেগ জড়িত কণ্ঠে বললেন হাশরের ময়দানে আমি যেন রাসূলের গোলাম হয়ে উঠতে পারি । আমি তখন বলব আমি আপনার গোলাম , আপনার নাতী একথার স্বীকৃতি দিয়েছে । বহু মানুষ তার সাক্ষী । কাজেই আমার সব দায়িত্ব আপনার । গোলামের সব কিছুর দায়িত্ব থাকে মুনীবের । আমি আপনার গোলাম , আমাকে উদ্ধার করার দায়িত্ব আপনার । এভাবে শুধু রাসূল ( সাঃ ) এবং সাহাবায়ে কেরামই নন , যারা বড় হয়েছেন , তাওয়ায় এবং বিনয়ের মাধ্যমেই বড় হয়েছেন । সমস্ত বুযুর্গানে দ্বীনের অবস্থা এরকম । তারা বড় হয়েছেন নিজেদের ছোট মনে করেই
* হযরত উসমানগণী কালবের চোখ দিয়ে বালকের দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্হানে পরার দৃশ্যটা দেখতে পান: হযরত উসমানগণী রাযি.-এর কাছে একব্যক্তি এল যার দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্থানে পড়েছিল। তিনি লোকটির চোখ দেখেই বুঝে ফেললেন। বললেন- مَا بَالُ أَقْوَا مٍ يَتَرَشَّحُ الزِّنَا مِنْ أَعْيُنِهِمْ ‘এজাতির কী হয়ে গেল! তাদের চোখ দিয়ে ব্যভিচার টপকে পড়ছে।’ লোকটি অবাক হয়ে গেল। ( মনে মনে ভাবল,আমি কুদৃষ্টতে পরনারীর দিকে তাকানোর এই ঘটনা কেমন করে জানলো,আল্লাহর পয়গাম্বরগন অহীর মীধ্যমে যানতেন,আল্লাহর নবীতো চলে গেছেন,অহীর দ্বারা বন্ধ হয়ে গেছে,সুতরাং বলে ওঠল, এখনও অহির ধারা অবশিষ্ট আছে? উসমান রাযি. উত্তর দিলেন, না, এটা তো মুমিনের অন্তদৃষ্টি। اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَاِنَّهُ يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ ‘মুমিনের অন্তদৃষ্টিকে ভয় কর। কারণ তিনি আল্লাহর নূর দ্বারা দেখেন।’ কাশফের অধিকারীরা লিখেছেন, কুদৃষ্টির কারণে এমন অন্ধকার সৃষ্টি হয় যে, যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেরা ধরে ফেলেন। পক্ষান্তরে শালীন ও আল্লাহভীরুব্যক্তির চোখে থাকে নূর।
Comments
Post a Comment