এই বুযুর্গেরই আর একটা ঘটনা । একটাকুকুরের গায়ে খোস পাচড়া । সমস্ত মানুষ কুকুরটাকে ঘৃণা করছে । কিন্তু তিনি ঐ কুকুরটাকে ধরে নিয়ে এসেছেন । ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করিয়েছেন । চিকিৎসা করে সুস্থ হওয়ার পর আপনজনদেরকে বলেছেন , তোমরা এই কুকুরটার দায়িত্ব নিয়ে নাও । কেউ তার দায়িত্ব নেয়নি । অবশেষে তিনি নিজের দায়িত্বে রেখেছেন । পরবর্তীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এলহাম হয়েছে যে , তোমার যত মারেফাতের জ্ঞান , যত বুযুর্গী , তা ঐ কুকুরের খেদমত করার ওছীলায় । তিনি বলতেন । এই কুকুরটা আল্লাহর এক মাখলুক , আল্লাহর কাছে আমার যদি নাজাত না হয় , তাহলে আমার চেয়ে এই কুকুরটা বেশী দামী । দেখা গেল কোন মানুষকে নয় , একটা তুচ্ছ প্রাণী কুকুরকেও তিনি তুচ্ছ জানেননি । বুযুর্গানে দ্বীন বলেনঃ কোন মানুষকে তুচ্ছ মনে করার অবকাশ নেই । এমনকি আল্লাহর কোন প্রাণীকেও তুচ্ছ মনে করতে নেই । আল্লাহর কাছে কে দামী , তা আল্লাহ পাকই জানেন । কাজেই আমি আল্লাহর কোন মাঘলুক থেকে নিজেকে বড় মনে করতে পারি না
* হযরত উসমানগণী কালবের চোখ দিয়ে বালকের দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্হানে পরার দৃশ্যটা দেখতে পান: হযরত উসমানগণী রাযি.-এর কাছে একব্যক্তি এল যার দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্থানে পড়েছিল। তিনি লোকটির চোখ দেখেই বুঝে ফেললেন। বললেন- مَا بَالُ أَقْوَا مٍ يَتَرَشَّحُ الزِّنَا مِنْ أَعْيُنِهِمْ ‘এজাতির কী হয়ে গেল! তাদের চোখ দিয়ে ব্যভিচার টপকে পড়ছে।’ লোকটি অবাক হয়ে গেল। ( মনে মনে ভাবল,আমি কুদৃষ্টতে পরনারীর দিকে তাকানোর এই ঘটনা কেমন করে জানলো,আল্লাহর পয়গাম্বরগন অহীর মীধ্যমে যানতেন,আল্লাহর নবীতো চলে গেছেন,অহীর দ্বারা বন্ধ হয়ে গেছে,সুতরাং বলে ওঠল, এখনও অহির ধারা অবশিষ্ট আছে? উসমান রাযি. উত্তর দিলেন, না, এটা তো মুমিনের অন্তদৃষ্টি। اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَاِنَّهُ يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ ‘মুমিনের অন্তদৃষ্টিকে ভয় কর। কারণ তিনি আল্লাহর নূর দ্বারা দেখেন।’ কাশফের অধিকারীরা লিখেছেন, কুদৃষ্টির কারণে এমন অন্ধকার সৃষ্টি হয় যে, যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেরা ধরে ফেলেন। পক্ষান্তরে শালীন ও আল্লাহভীরুব্যক্তির চোখে থাকে নূর।
Comments
Post a Comment