একজন বুযুর্গের ঘটনা আছে তার মুখে ছিল নীচের দিকে সামান্য কয়েকটা দাড়ি । আমরা অনেকে এরকম দাড়িকে ছাগলে দাড়ি বলে থাকি । কিন্তু এটা ঠিক নয় । দাড়ি তো দাড়িই । দাড়ি একটা মর্যাদার জিনিস । সেটাকে ছাগলের মুখের পশমের সাথে উদাহরণ দিয়ে ছাগলে দাড়ি বলা ঠিক নয় । যাহোক একদিন এক লোক ঐ বুযুর্গের সাথে উপহাস করার জন্য একটা ছাগল নিয়ে এসে বলল হুজুর । আপনার দাড়ি বেশী দামী না আমার ছাগলের দাড়ি বেশী দামী । বুযুর্গ বললেন , আমি এখন মন্তব্য করতে আমাকে জিজ্ঞাসা করো । আমি যখন মৃত্যু বরণ করবো তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করিও। মরার পরে যখন ঐ বুযুর্গের লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল , তখন সেই লোকটা হাজির হল । তখন লাশের যবান খুলে গেল যে , তোমার ছাগলের দাড়ির চেয়ে আমার দাড়ি বেশী দামী । কারণ আমার ঈমানের সাথে মৃত্যু হয়েছে , আমার নাজাতের ব্যবস্থা হয়ে গেছে । কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি বলেননি , আমার দাড়ি বেশী দামী । একটা ছাগলকেও তিনি তুচ্ছ জানেননি । এভাবে সব ক্ষেত্রে নিজেদেরকে তুচ্ছ জেনে এবং তাওয়ায় ’ প্রদর্শন করেই বড়রা বড় হয়েছেন । নিজেকে বড় মনে করলে এবং বড়ায়ী দেখালেই বড় হওয়া যায় না।
* হযরত উসমানগণী কালবের চোখ দিয়ে বালকের দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্হানে পরার দৃশ্যটা দেখতে পান: হযরত উসমানগণী রাযি.-এর কাছে একব্যক্তি এল যার দৃষ্টি পথে অবাঞ্চিত স্থানে পড়েছিল। তিনি লোকটির চোখ দেখেই বুঝে ফেললেন। বললেন- مَا بَالُ أَقْوَا مٍ يَتَرَشَّحُ الزِّنَا مِنْ أَعْيُنِهِمْ ‘এজাতির কী হয়ে গেল! তাদের চোখ দিয়ে ব্যভিচার টপকে পড়ছে।’ লোকটি অবাক হয়ে গেল। ( মনে মনে ভাবল,আমি কুদৃষ্টতে পরনারীর দিকে তাকানোর এই ঘটনা কেমন করে জানলো,আল্লাহর পয়গাম্বরগন অহীর মীধ্যমে যানতেন,আল্লাহর নবীতো চলে গেছেন,অহীর দ্বারা বন্ধ হয়ে গেছে,সুতরাং বলে ওঠল, এখনও অহির ধারা অবশিষ্ট আছে? উসমান রাযি. উত্তর দিলেন, না, এটা তো মুমিনের অন্তদৃষ্টি। اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَاِنَّهُ يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ ‘মুমিনের অন্তদৃষ্টিকে ভয় কর। কারণ তিনি আল্লাহর নূর দ্বারা দেখেন।’ কাশফের অধিকারীরা লিখেছেন, কুদৃষ্টির কারণে এমন অন্ধকার সৃষ্টি হয় যে, যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেরা ধরে ফেলেন। পক্ষান্তরে শালীন ও আল্লাহভীরুব্যক্তির চোখে থাকে নূর।
Comments
Post a Comment