রাসূল ( সাঃ ) -এর সাথে তাঁর ছিল প্রেমের সম্পর্ক । একথা বলার পর রওযা শরীফ থেকে রাসুলের হাত উঠে আসে , তিনি সেই মোবারক হাতের সাথে মোসাফাহা করেছেন এবং চুমু দিয়েছেন । এর পরে সাথে সাথে মনে করেছেন এখন এই দরবারের সমস্ত মানুষ আমাকে বড় বুযুর্গ মনে করবে , আমার মনে অহংকার এসে যাবে , তাই সাথে সাথে তিনি মসজিদের দরজার উপরে শুয়ে পড়েন এবং বলতে থাকেন আমার ভিতরে অহংকার এসে গেছে , আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা সবাই আমার উপর পাড়া দিয়ে পার হয়ে যান । এভাবে নিজের মধ্যে অহংকার আসার কোন সুযোগ দেননি । নিজেকে মানুষের সামনে তুচ্ছ করে রাখতে চেয়েছেন । সকলকে বড় মনে করেছেন , নিজেকে তুচ্ছ জেনেছেন । এই বুযুর্গেরই আর একটা ঘটনা । একটাকুকুরের গায়ে খোস পাচড়া । সমস্ত মানুষ কুকুরটাকে ঘৃণা করছে । কিন্তু তিনি ঐ কুকুরটাকে ধরে নিয়ে এসেছেন । ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করিয়েছেন । চিকিৎসা করে সুস্থ হওয়ার পর আপনজনদেরকে বলেছেন , তোমরা এই কুকুরটার দায়িত্ব নিয়ে নাও । কেউ তার দায়িত্ব নেয়নি । অবশেষে তিনি নিজের দায়িত্বে রেখেছেন । পরবর্তীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এলহাম হয়েছে যে , তোমার যত মারেফাতের জ্ঞান , যত বুযুর্গী , তা ঐ কুকুরের খেদমত করার ওছীলায় । তিনি বলতেন । এই কুকুরটা আল্লাহর এক মাখলুক , আল্লাহর কাছে আমার যদি নাজাত না হয় , তাহলে আমার চেয়ে এই কুকুরটা বেশী দামী । দেখা গেল কোন মানুষকে নয় , একটা তুচ্ছ প্রাণী কুকুরকেও তিনি তুচ্ছ জানেননি । বুযুর্গানে দ্বীন বলেনঃ কোন মানুষকে তুচ্ছ মনে করার অবকাশ নেই । এমনকি আল্লাহর কোন প্রাণীকেও তুচ্ছ মনে করতে নেই । আল্লাহর কাছে কে দামী , তা আল্লাহ পাকই জানেন । কাজেই আমি আল্লাহর কোন মাঘলুক থেকে নিজেকে বড় মনে করতে পারি না । একজন বুযুর্গের ঘটনা আছে তার মুখে ছিল নীচের দিকে সামান্য কয়েকটা দাড়ি । আমরা অনেকে এরকম দাড়িকে ছাগলে দাড়ি বলে থাকি । কিন্তু এটা ঠিক নয় । দাড়ি তো দাড়িই । দাড়ি একটা মর্যাদার জিনিস । সেটাকে ছাগলের মুখের পশমের সাথে উদাহরণ দিয়ে ছাগলে দাড়ি বলা ঠিক নয় । যাহোক একদিন এক লোক ঐ বুযুর্গের সাথে উপহাস করার জন্য একটা ছাগল নিয়ে এসে বলল হুজুর । আপনার দাড়ি বেশী দামী না আমার ছাগলের দাড়ি বেশী দামী । বুযুর্গ বললেন , আমি এখন মন্তব্য করতে আমাকে জিজ্ঞাসা করো । মরার পরে যখন ঐ বুযুর্গের লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল , তখন সেই লোকটা হাজির হল । তখন লাশের যবান খুলে গেল যে , তোমার ছাগলের দাড়ির চেয়ে আমার দাড়ি বেশী দামী । কারণ আমার ঈমানের সাথে মৃত্যু হয়েছে , আমার নাজাতের ব্যবস্থা হয়ে গেছে । কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি বলেননি , আমার দাড়ি বেশী দামী । একটা ছাগলকেও তিনি তুচ্ছ জানেননি । এভাবে সব ক্ষেত্রে নিজেদেরকে তুচ্ছ জেনে এবং তাওয়ায় ’ প্রদর্শন করেই বড়রা বড় হয়েছেন । নিজেকে বড় মনে করলে এবং বড়ায়ী দেখালেই বড় হওয়া যায় না।
নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী
নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী، মিশকাতুল মাসাবিহ,২৩৫৫ وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا الْمَيِّتُ فِى الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيقِ الْمُتَغَوِّثِ يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُه مِنْ أَبٍ أَوْ أُمٍّ أَوْ أَخٍ أَوْ صَدِيقٍ فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَإِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى لَيُدْخِلُ عَلٰى اَهْلِ الْقُبُورِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الْاِسْتِغْفَارُ لَهُمْ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দু‘আ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দু‘আ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দু‘আ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াবাসীদের দু‘আয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহম...
Comments
Post a Comment